হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২৩:১২ | অনলাইন সংস্করণ
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম মূল ধমনি হরমুজ প্রণালি আজ এক নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে। এই কৌশলগত জলপথের ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, সামরিক অভিযান এবং টোল বা ফি আদায়ের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক অরাজকতার এক বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির এই চলমান সংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন এবং দীর্ঘদিনের ‘মুক্ত সমুদ্র’ (Free Seas) নীতির অবক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর একতরফা সিদ্ধান্ত, কৌশলগত চোকপয়েন্টগুলো (Chokepoints) দখলের প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে তোয়াক্কা না করার মানসিকতার কারণে বিশ্ব এখন এক নতুন সামুদ্রিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও অস্থিরতার যুগে প্রবেশ করছে।
সাইমন টিসডালের বিশ্লেষণ ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে এই সামুদ্রিক যুদ্ধক্ষেত্রকে ৪টি মূল কোণে ভাগ করা যায়। প্রথমত, ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ‘মুক্ত সমুদ্র’ নীতির বড় সমর্থক হলেও বাস্তবতায় বিশ্বশক্তির অবস্থান সর্বদা নিজেদের বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ওপর নির্ভর করে এসেছে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: ১৮২৫ সালে গ্রিকদের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন কমোডর জন রজার্সের নেতৃত্বে মার্কিন নৌবহরের ভূমধ্যসাগরে আগমন গ্রিকদের সহায়তার জন্য ছিল না, বরং মার্কিন বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য ছিল।
আইনগত দ্বিমুখী নীতি: যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮২ সালের জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন সনদ (UNCLOS) অনুস্বাক্ষর করেনি, অথচ কৌশলগত সুবিধামতো তারা সমুদ্রসীমার স্বাধীনতা দাবি করে। হরমুজ প্রণালিতে ফি আদায় বা বাণিজ্যিক জাহাজ নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সাম্প্রতিক মোড় আন্তর্জাতিক আইনের অকার্যকারিতাকেই উসকে দিচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্যই পরিবাহিত হয় সাগরে। ফলে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চোকপয়েন্ট বা প্রণালিগুলো এখন ভূরাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অক্ষ: হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার মার্কিন সামরিক কৌশল এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
