reporterআজকের টাইমস ডেস্ক
  ৫ মাস আগে
Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
sharethis sharing button

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সংকটে পড়বে দেশ

জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। ইতিহাসে গণভোটের রায় সরকার অমান্য করেছে—এমন কোনো নজির নেই বলেও জানান তিনি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে কিনোট পেপার উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

শিশির মনির বলেন, জগতে কোথাও কি শুনেছেন গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়? সংবিধান মেনে তো অভ্যুত্থান হয় না, এটি হয় সংবিধানের বাইরে থেকে। এখন এই রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী ১৯ তারিখ আদালত খুলবে। আমরা আশা করছি আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে। যদি বাংলাদেশের আদালত তার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া।

সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, গণভোটের রেজাল্ট মেনে নিয়ে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। এরপর উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই ভাগে পার্লামেন্ট বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কথা। উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার কথা ১০০ জনকে নিয়ে, যেখানে ভোটের সংখ্যানুপাতে দলগুলো আসন পাবে। এই কর্মকাণ্ড যদি আপনারা প্রদর্শন না করেন, তবে তা হবে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

তিনি বলেন, আমি সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির সংগ্রহ করেছি। দুনিয়ার ইতিহাসে এমন একটা উদাহরণ নেই, যেখানে মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছে আর সরকার তা মানেনি।

রাজনৈতিক ইস্যু আদালতে আসায় শিশির মনির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তন করেছিলাম। সেটাকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে ‘অসাংবিধানিক’ বলা হলো। ফলে ১৭ বছর দেশে আগুন জ্বলল। এখন আবার কোর্ট বলছেন, সেটা সাংবিধানিক। রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান যখন কোর্টে খোঁজা হয়, তখন সংকট আরও বাড়ে।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিসাইল ছুড়লে তার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে হয়। তা না হলে সেই মিসাইল কার বাড়িতে গিয়ে পড়বে, কোনো শিশু বা নারীকে হত্যা করবে, তার ঠিক থাকে না। আপনারা ওপর দিকে চেয়ে থুতু দিচ্ছেন, অপেক্ষা করেন, কয়দিন পর এই থুতু ঘুরে আপনাদের নিজেদের গায়েই পড়বে।

  • সর্বশেষ