reporterআজকের টাইমস ডেস্ক
  ২ মাস আগে
Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
sharethis sharing button

বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

বিতর অর্থ বিজোড়। এ নামাজ ৩ রাকাত হওয়ায় একে বিতর বলা হয়। এ নামাজ পড়া ওয়াজিব। এশার নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক (রাতের শেষ দিকে পূর্ব দিগন্তের উভয় দিকে ক্ষীণ প্রশস্ত আকারে আলোর প্রকাশ) পর্যন্ত আদায় করা যায়। সামান্য কিছু ভিন্নতা ছাড়া অন্য নামাজের মতো আদায় করতে হয়।

বিতর নামাজের গুরুত্ব : রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও এ নামাজ ছাড়তেন না। সাহাবিদেরও এ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিতেন। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধু আমাকে ৩টি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, যা মৃত্যু পর্যন্ত আমি ছাড়ব না। তা হলো, এক. প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখা, দুই. দুই রাকাত চাশতের নামাজ পড়া এবং তিন ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ পড়া। (বোখারি : ১১৭৮)।

বিতর নামাজ পড়ার সময় : রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত রাতের শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদের পর বিতর আদায় করতেন। পরিবারের সদস্যদের জাগিয়ে দিতেন। এ জন্য রাতের শেষাংশে বিতর নামাজ আদায় করা উত্তম। তবে এশার নামাজের পরও আদায় করা যায়।? রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনও কখনও এশার নামাজের পর বিতর আদায় করতেন। যাদের তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস নেই কিংবা তাহাজ্জুদের সময় ওঠার ব্যাপারে শঙ্কা আছে, তাদের জন্য এশার নামাজের পর পড়ে নিতে হবে।

বিতর নামাজ কয় রাকাত? : হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, বিতর নামাজ ৩ রাকাত। আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রা.) থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজ কেমন ছিল? তিনি বললেন, নবীজি রমজান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতে) ১১ রাকাতের বেশি নামাজ আদায় করতেন না। তিনি ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতেন। তুমি সেই নামাজের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি ৩ রাকাত (বিতর) নামাজ আদায় করতেন।’ (বোখারি : ১১৪৭)।

তিন রাকাতে তিন সুরা : তিন রাকাত বিতর নামাজে তিনটি সুরা পড়তেন নবীজি (সা.)। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন রাকাত বিতর নামাজে প্রথম রাকাতে সুরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরুন ও তৃতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়তেন। রুকুর আগে দোয়া কুনুত পড়তেন তিনি।’ (নাসায়ি : ১৬৯৯)।

বিতর নামাজের ফজিলত : নারী-পুরুষ, মুকিমণ্ডমুসাফির সবার ওপর বিতর নামাজ আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ। খাদিজা ইবনে হুজাফা (রা.) বলেন, ‘একবার রাসুল (সা.) আমাদের কাছে এসে বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য একটি নামাজ বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা রক্তবর্ণের উট থেকেও তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। এটি বিতর নামাজ। এশার নামাজ ও সুবহে সাদিক উভয়ের মধ্যবর্তী সময়টিকে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ : ১৪১৮)। বিতর নামাজ আদায়কারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন। আলি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে কোরআনের অনুসারীরা, তোমরা বিতরের নামাজ আদায় করো। কেননা আল্লাহ তায়ালা বিজোড় (একক)। তিনি বিজোড় (বিতর) ভালোবাসেন।’ (আবু দাউদ : ১৪১৬)।

  • সর্বশেষ