reporterআজকের টাইমস ডেস্ক
  ২ সপ্তাহ আগে
Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
sharethis sharing button

সংকটকালে বেশি পরিমাণে পণ্য মজুত করা হারাম

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, দুর্ভিক্ষ কিংবা সংকটকালে অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য বা পণ্য অধিক পরিমাণে কিনে মজুত করেন। তারা এগুলো কিনে বাসাবাড়ি বা নিরাপদ জায়গায় রেখে দেন। বাণিজিক উদ্দেশে রাখার দৃষ্টান্ত যেমন আছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাখারও দৃষ্টান্ত আছে। এতে প্রকৃত সংকট না থাকলেও এই মজুতকরণ প্রকৃত সংকট ঘনীভূত করে। মজুত হলো, অধিক পরিমাণে খাদ্যদ্রব্য বা অন্যান্য পণ্য কিনে বেশি দামে পণ্য বিক্রির জন্য রেখে দেওয়া। মজুতদারির প্রভাবে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়। এতে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। জনসাধারণের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওঠে নাভিশ্বাস। সংকট সৃষ্টি বা মানুষের ক্ষতি করে মজুত করা হারাম।

ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে, স্বাভাবিক অবস্থায় অর্থাৎ বড় কোনো সংকট, যুদ্ধপরিস্থিতি, দুর্ভিক্ষ বা দুর্ভিক্ষ হওয়ার শঙ্কা না থাকাকালে পণ্য মজুত করা নিষিদ্ধ নয়। একইভাবে নিজের বা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য খাদ্যদ্রব্য বা পণ্য সামগ্রী সঞ্চয় করা নাজায়েজ নয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার পরিবারের জন্য এক বছরের খাদ্যশস্য দিয়ে দিতেন।

তবে অস্বাভাবিক অবস্থায়, বিশেষ করে পণ্য মজুতের ফলে যদি সংকট দেখা দেয়, তাহলে বেশি পরিমাণে পণ্য কিনে মজুত করা হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি (সংকট তৈরি করে) খাদ্যশস্য গুদামজাত করে, সে অপরাধী।’ (মুসলিম : ১৬০৫)। গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা, অবৈধভাব পণ্যের মূল্য বাড়ানো পাপ। আল্লাহ এদের শাস্তি দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দিয়ে শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ : ২২৩৮)। আল্লামা ইবনে হাজর হাইতামি (রহ.) গুদামজাত করে মূল্যবৃদ্ধি করাকে কবিরা গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন। (নিহায়াতুল মুহতাজ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৪৫৬)। পণ্য মজুতের মাধ্যমে মূলত মানুষের ক্ষতি করা হয়। ইসলামে অন্যের ক্ষতি করা নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে অন্যের ক্ষতি করে আল্লাহ তার ক্ষতি করেন এবং যে অন্যের শত্রুতা করে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেন।’ (আবু দাউদ : ৩৬৩৫)। 

  • সর্বশেষ