reporterআজকের টাইমস ডেস্ক
  ৪ দিন আগে
Shares
facebook sharing button
twitter sharing button
pinterest sharing button
sharethis sharing button

গ্রিন টি বিশ্বের জনপ্রিয় পানীয়

গ্রিন টি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। অনেকে ওজন কমানো, হজমশক্তি উন্নত করা বা চিনিযুক্ত পানীয়ের একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে এটি পান করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য এর সম্ভাব্য উপকারিতার কারণেও গ্রিন টি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, গ্রিন টি-তে থাকা নির্দিষ্ট কিছু যৌগ কোলেস্টেরল কমাতে, রক্তচাপ উন্নত করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

গ্রিন টি-তে ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালীকে রক্ষা করে বলে মনে করা হয়। গ্রিন টি-তে এমন প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে যা শরীরের প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই দুটি বিষয় হৃদরোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে তা সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার স্বা¯’্যকে সহায়তা করতে পারে। ধীরে ধীরে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ক্ষতি হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য হৃদণ্ডসম্পর্কিত অবস্থার ঝুঁকি বাড়ায়।

উ”চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্রিন টি ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। গ্রিন টি এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা সাধারণত খারাপ কোলেস্টেরল নামে পরিচিত। একইসঙ্গে এটি এইচডিএল কোলেস্টেরল অর্থাৎ ভালো কোলেস্টেরল যা হৃদপি-কে রক্ষা করে, তার মাত্রা সামান্য উন্নত করতে পারে।

এলডিএল কোলেস্টেরল ধমনীর ভিতরে জমা হয়। ধীরে ধীরে এই জমা হওয়া কোলেস্টেরল ধমনীকে সংকীর্ণ করে তোলে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিউট্রিশন জার্নালের একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা, রক্তের লিপিডের ওপর গ্রিন টি পানের প্রভাব, থেকে জানা যায় যে, গ্রিন টি পান করলে মোট কোলেস্টেরল এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেকটা কমে যায়।

তবে, গবেষণায় এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল)-এর মাত্রার ক্ষেত্রে কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে গ্রিন টি কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করতে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করতে পারে, যদিও এর প্রভাব সামান্য এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের সঙ্গে এটি গ্রহণ করা উচিত।

বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন তাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কম থাকতে পারে। গ্রিন টি রক্তনালীর কার্যকারিতা এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। এটি স্বাস্থ্যকর রক্ত প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। জাপানি এক গবেষণায় ৪০ হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এতে দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন পাঁচ বা তার বেশি কাপ গ্রিন টি পান করেন, তাদের হৃদরোগ এবং স্ট্রোকে মৃত্যুর ঝুঁকি কম থাকে।

  • সর্বশেষ