শিশুর যত্নে কৌশলী হওয়া

শিশুর ত্বকের উপযোগী কম ক্ষারের সাবান ব্যবহার করতে পারেন প্রতিদিন। সোনামণির চুলের উপযোগী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন সপ্তাহে দুই-তিন দিন (নবজাতকের জন্য দুই দিনই যথেষ্ট)। গোসলের পর বেবি লোশন দিতে পারেন। তবে ১৫ দিন বয়সের আগে তেল, লোশন কিছুরই প্রয়োজন নেই। শীতে ছোট শিশুর চুল না ফেলাই ভালো। নবজাতকের প্রথম চুল ফেলতে দেড়-দুই মাস অপেক্ষা করুন।
প্রচলিত নিয়মে বিছানায় নবজাতকের মাথা রাখতে পাগড়ির মতো গোল একটা কিছু তৈরি করা হয়, যার কোনো প্রয়োজন নেই। নবজাতকের জন্য এক ইঞ্চি উচ্চতার নরম ও পাতলা বালিশ ভালো, খেয়াল রাখুন যেন ঘাড়ে ভাঁজ না পড়ে। চাইলে শিশুর জন্য চারকোনা কাপড় প্যাঁচানো ছাড়া ভাঁজ করে এক ইঞ্চি উচ্চতা করে নিতে পারেন। ছয় মাসের পর বয়স অনুযায়ী বালিশের উচ্চতা বাড়ানো যায়। এই উচ্চতা দুই ইঞ্চি করতে পারেন দুই বছর বয়সে। শিশু মায়ের কাছেই ঘুমাবে। তবে খেয়াল রাখুন, কম্বল, কাঁথা, বিছানার চাদর, বালিশ, এমনকি মায়ের শরীরের কোনো অংশে যেন শিশুর নাকমুখ চেপে না যায় কিংবা শিশু বিছানা থেকে পড়ে না যায়।
● প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শিশুকে রোদে রাখুন। সকাল নয়টার আগে বা বিকেল চারটার পর রোদে রাখা ভালো। সঙ্গে থাকুন মা-ও। দুজনের শরীরেই ভিটামিন–ডি তৈরি হবে।
● তিন-চার মাস পর্যন্ত খুবই সাবধানে কোলে নিন, যেন ঘাড়ের পেছনে শক্তভাবে ধরা থাকে। অর্থাৎ, কোনোভাবেই শিশুর মাথা যেন ঝুলে না পড়ে। হাত ধরে টেনে শিশুকে কোলে নেওয়া উচিৎ নয়, কাঁধের জয়েন্ট বা জোড়া আলগা হয়ে হাত ঝুলে পড়তে পারে।
● হাঁটা শেখাতে ওয়াকার দেওয়া নিষেধ। প্রাকৃতিক নিয়মে শিশু একেক ধাপে একেক কাজ শেখে। নিয়মের বাইরে গেলে উল্টো ফল হতে পারে (হাঁটা শিখতে দেরি হতে পারে)।
● অনেক সময় মায়ের অফিসে শিশুকে নিয়ে গিয়ে দুধ পান করিয়ে আনার সুযোগ থাকে, শিশুকে রাখার ব্যবস্থাও থাকে। প্রয়োজনে শিশুকে বাইরে নিতে ক্ষতি নেই।
● বুকের সামনে শিশুকে ঝুলিয়ে বহন করলেও ক্ষতি নেই। শুধু সে যেন পুরোপুরি ‘সাপোর্ট’ পায়, মানে ওর শরীর যেন পুরোপুরিভাবে সমর্থিত হয়।
